Urine Analyzer দিয়ে কোন কোন টেস্ট করা যায়?

 


Urine Analyzer একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্র যা প্রস্রাবের (ইউরিন) নমুনা বিশ্লেষণ করে শরীরের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এটি হাসপাতাল, ক্লিনিক, এবং ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ইউরিন অ্যানালাইজারের মাধ্যমে প্রস্রাবের শারীরিক, রাসায়নিক এবং মাইক্রোস্কোপিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা যায়, যা থেকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI), কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, লিভার সমস্যা, এবং এমনকি গর্ভাবস্থার মতো অবস্থা নির্ণয় করা সম্ভব। এই ব্লগ পোস্টে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব যে ইউরিন অ্যানালাইজার দিয়ে কোন কোন টেস্ট করা যায়, এই টেস্টগুলো কীভাবে কাজ করে, এবং এগুলো কী কী স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করতে পারে।

ইউরিন অ্যানালাইজার কী?

ইউরিন অ্যানালাইজার হলো একটি অটোমেটেড ডিভাইস যা প্রস্রাবের নমুনা বিশ্লেষণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি সাধারণত টেস্ট স্ট্রিপস (dipsticks) বা কেমিক্যাল রিএজেন্ট ব্যবহার করে প্রস্রাবের বিভিন্ন উপাদান পরিমাপ করে। আধুনিক ইউরিন অ্যানালাইজারগুলো (যেমন: Siemens CLINITEK Status+, Roche cobas 6500, Beckman Coulter Iris iQ200) দ্রুত এবং নির্ভুল ফলাফল প্রদান করে। এই যন্ত্রগুলো প্রস্রাবের রং, ঘনত্ব, pH, প্রোটিন, গ্লুকোজ, এবং মাইক্রোস্কোপিক উপাদান যেমন রক্তকণিকা বা ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষা করতে পারে।

ইউরিনালাইসিস (Urinalysis) হলো ইউরিন অ্যানালাইজারের মাধ্যমে পরিচালিত প্রধান টেস্ট, যা তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত:

  1. শারীরিক পরীক্ষা (Physical/Macroscopic Examination): প্রস্রাবের রং, স্বচ্ছতা, এবং গন্ধ পরীক্ষা।

  2. রাসায়নিক পরীক্ষা (Chemical Examination): প্রস্রাবের রাসায়নিক উপাদান যেমন গ্লুকোজ, প্রোটিন, কিটোন ইত্যাদি পরিমাপ।

  3. মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা (Microscopic Examination): প্রস্রাবে রক্তকণিকা, ব্যাকটেরিয়া, ক্রিস্টাল ইত্যাদি শনাক্তকরণ।

ইউরিন অ্যানালাইজার দিয়ে কোন কোন টেস্ট করা যায়?

ইউরিন অ্যানালাইজার দিয়ে বিভিন্ন ধরনের টেস্ট করা যায়, যা নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। এই টেস্টগুলো বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে এবং রুটিন হেলথ চেকআপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

1. শারীরিক পরীক্ষা (Physical Examination)

শারীরিক পরীক্ষায় ইউরিনের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাগুলো প্রাথমিকভাবে ইউরিন অ্যানালাইজার বা ম্যানুয়ালি চোখে দেখে করা যায়। তবে আধুনিক অ্যানালাইজারগুলো এই বৈশিষ্ট্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ করে।

  • রং (Urine Color):
    ইউরিনের রং সাধারণত হালকা হলুদ থেকে গাঢ় হলুদ হয়। তবে এটি লাল, বাদামী, সবুজ বা কালো হতে পারে।

    • নির্দেশক: লাল রং হেমাটুরিয়া (রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব) বা খাবার (বিটরুট) নির্দেশ করতে পারে। বাদামী রং লিভার সমস্যা বা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।

    • সম্পর্কিত রোগ: ডিহাইড্রেশন, জন্ডিস, রক্তপাত।

  • স্বচ্ছতা (Clarity/Turbidity):
    স্বাভাবিক প্রস্রাব সাধারণত স্বচ্ছ। ঘোলা প্রস্রাব ইনফেকশন, প্রোটিন, বা ক্রিস্টালের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

    • নির্দেশক: ঘোলাটে প্রস্রাব UTI বা কিডনি স্টোনের লক্ষণ হতে পারে।

    • সম্পর্কিত রোগ: ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন, কিডনি রোগ।

  • গন্ধ (Odor):
    সাধারণত প্রস্রাবের গন্ধ মৃদু থাকে। তবে মিষ্টি গন্ধ ডায়াবেটিস বা কিটোনের উপস্থিতি নির্দেশ করতে পারে

    • নির্দেশক: তীব্র গন্ধ ইনফেকশন বা ডিহাইড্রেশন নির্দেশ করতে পারে।

    • সম্পর্কিত রোগ: UTI, ডায়াবেটিস।

2. রাসায়নিক পরীক্ষা (Chemical Examination)

রাসায়নিক পরীক্ষায় টেস্ট স্ট্রিপ বা রিএজেন্ট ব্যবহার করে প্রস্রাবের রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করা হয়। এই টেস্টগুলো ইউরিন অ্যানালাইজারের প্রধান কাজ। নিচে এই টেস্টগুলোর বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো:

  • pH লেভেল (Urine pH):
    প্রস্রাবের অ্যাসিডিটি বা আলকালিনিটি পরিমাপ করে (সাধারণ রেঞ্জ: 4.5-8.0)।

    • নির্দেশক: অ্যাসিডিক প্রস্রাব (নিম্ন pH) ডায়াবেটিস কেটোসিস বা ডিহাইড্রেশন নির্দেশ করতে পারে। আলকালাইন প্রস্রাব (উচ্চ pH) UTI বা কিডনি স্টোন নির্দেশ করতে পারে।

    • সম্পর্কিত রোগ: কিডনি স্টোন, UTI, মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস।

  • স্পেসিফিক গ্র্যাভিটি (Specific Gravity):
    প্রস্রাবের ঘনত্ব পরিমাপ করে (সাধারণ রেঞ্জ: 1.005-1.030)।

    • নির্দেশক: উচ্চ মান ডিহাইড্রেশন বা কিডনি সমস্যা নির্দেশ করে। নিম্ন মান ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস বা কিডনি ফাংশন হ্রাস নির্দেশ করতে পারে।

    • সম্পর্কিত রোগ: ডিহাইড্রেশন, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস।

  • প্রোটিন (Protein/Albumin):
    প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি পরীক্ষা করে (সাধারণত trace বা নেগেটিভ)।

    • নির্দেশক: প্রোটিনের উপস্থিতি (প্রোটিনুরিয়া) কিডনি ফিল্টারের সমস্যা নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: কিডনি ড্যামেজ, নেফ্রোটিক সিনড্রোম, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন।

  • গ্লুকোজ (Glucose):
    প্রস্রাবে চিনির পরিমাণ পরীক্ষা করে। সাধারণত প্রস্রাবে গ্লুকোজ থাকা উচিত নয়।

    • নির্দেশক: গ্লুকোজের উপস্থিতি ডায়াবেটিস বা অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: ডায়াবেটিস মেলিটাস, হাইপোগ্লাইসেমিয়া।

  • কিটোন (Ketones):
    প্রস্রাবে কিটোন বডিজের উপস্থিতি পরীক্ষা করে।

    • নির্দেশক: কিটোন ডায়াবেটিস কেটোসিস, অনাহার, বা কম কার্বোহাইড্রেট ডায়েট নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: ডায়াবেটিক কেটোসিস, স্টার্ভেশন।

  • নাইট্রাইট (Nitrites):
    প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পরীক্ষা করে।

    • নির্দেশক: পজিটিভ ফলাফল UTI নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন।

  • লিউকোসাইট এস্টারেজ (Leukocyte Esterase):
    প্রস্রাবে সাদা রক্তকণিকা (WBC) পরীক্ষা করে।

    • নির্দেশক: পজিটিভ ফলাফল ইনফেকশন বা প্রদাহ নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: UTI, কিডনি ইনফেকশন।

  • ব্লাড/হিমোগ্লোবিন (Occult Blood/Hemoglobin):
    প্রস্রাবে লুকানো রক্ত বা হিমোগ্লোবিন শনাক্ত করে।

    • নির্দেশক: রক্তের উপস্থিতি হেমাটুরিয়া, কিডনি স্টোন, বা টিউমার নির্দেশ করতে পারে।

    • সম্পর্কিত রোগ: কিডনি স্টোন, ব্লাডার ক্যান্সার, ইনফেকশন।

  • বিলিরুবিন (Bilirubin):
    প্রস্রাবে বিলিরুবিনের উপস্থিতি পরীক্ষা করে।

    • নির্দেশক: বিলিরুবিনের উপস্থিতি লিভার বা গলব্লাডার সমস্যা নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: জন্ডিস, হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস।

  • ইউরোবিলিনোজেন (Urobilinogen):
    বিলিরুবিনের বাইপ্রোডাক্ট পরীক্ষা করে।

    • নির্দেশক: অস্বাভাবিক মাত্রা লিভার বা কিডনি সমস্যা নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: লিভার ডিজিজ, হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া।

  • মাইক্রো-অ্যালবুমিন (Microalbumin):
    প্রস্রাবে অল্প পরিমাণ প্রোটিন পরীক্ষা করে।

    • নির্দেশক: পজিটিভ ফলাফল প্রাথমিক কিডনি ড্যামেজ নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি, হাইপারটেনশন।

3. মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা (Microscopic Examination)

মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষায় প্রস্রাবের সেডিমেন্ট বিশ্লেষণ করা হয়। কিছু অ্যানালাইজার (যেমন Beckman Coulter Iris iQ200) এই পরীক্ষা অটোমেটেডভাবে করে, তবে অনেক ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল মাইক্রোস্কোপি প্রয়োজন হয়।

  • রেড ব্লাড সেল (Red Blood Cells - RBC):
    প্রস্রাবে লাল রক্তকণিকা শনাক্ত করে।

    • নির্দেশক: RBC-এর উপস্থিতি হেমাটুরিয়া নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: কিডনি স্টোন, UTI, ব্লাডার ক্যান্সার।

  • হোয়াইট ব্লাড সেল (White Blood Cells - WBC):
    প্রস্রাবে সাদা রক্তকণিকা শনাক্ত করে।

    • নির্দেশক: WBC-এর উপস্থিতি ইনফেকশন বা প্রদাহ নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: UTI, কিডনি ইনফেকশন।

  • ইপিথেলিয়াল সেল (Epithelial Cells):
    প্রস্রাবে চামড়া বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টের কোষ শনাক্ত করে।

    • নির্দেশক: অতিরিক্ত ইপিথেলিয়াল সেল দূষিত নমুনা বা ইনফেকশন নির্দেশ করতে পারে।

    • সম্পর্কিত রোগ: UTI, দূষণ।

  • কাস্ট (Casts):
    প্রস্রাবে টিউব-আকৃতির প্রোটিন কাঠামো শনাক্ত করে।

    • নির্দেশক: হাইলিন কাস্ট সাধারণ হতে পারে, তবে গ্রানুলার বা RBC কাস্ট কিডনি ড্যামেজ নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: কিডনি রোগ, নেফ্রোটিক সিনড্রোম।

  • ক্রিস্টাল (Crystals):
    প্রস্রাবে খনিজ ক্রিস্টাল (যেমন ক্যালসিয়াম অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড) শনাক্ত করে।

    • নির্দেশক: নির্দিষ্ট ক্রিস্টাল কিডনি স্টোনের ধরন নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: কিডনি স্টোন, গাউট।

  • ব্যাকটেরিয়া/ইয়িস্ট (Bacteria/Yeast):
    প্রস্রাবে জীবাণু বা ফাঙ্গাস শনাক্ত করে।

    • নির্দেশক: ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি UTI নির্দেশ করে; ইয়িস্ট ফাঙ্গাল ইনফেকশন নির্দেশ করে।

    • সম্পর্কিত রোগ: UTI, ক্যান্ডিডিয়াসিস।

বিশেষ টেস্টসমূহ

কিছু বিশেষ টেস্ট ইউরিন অ্যানালাইজার দিয়ে করা যায়, যা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • ইউরিন আর/ই (Urine Routine Examination):
    বাংলাদেশ ও ভারতে এটি সবচেয়ে সাধারণ টেস্ট, যা শারীরিক, রাসায়নিক, এবং মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষার সমন্বয়। এটি রুটিন চেকআপে ব্যবহৃত হয়।

  • ইউরিন কালচার সেনসিটিভিটি (Urine C/S):
    ইউরিন অ্যানালাইজার UTI স্ক্রিনিং করতে পারে (নাইট্রাইট, লিউকোসাইট এস্টারেজ), তবে সম্পূর্ণ কালচারের জন্য ল্যাবে ম্যানুয়াল টেস্ট প্রয়োজন।

  • 24-ঘণ্টা ইউরিন প্রোটিন (24-Hour Urine Protein):
    কিছু অ্যানালাইজার এই টেস্ট সমর্থন করে, যা কিডনি ফাংশন মনিটরিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • প্রেগন্যান্সি টেস্ট (hCG):
    কিছু অ্যানালাইজার (যেমন Siemens CLINITEK) প্রস্রাবে hCG (হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন) পরীক্ষা করে গর্ভাবস্থা নির্ণয় করতে পারে।

  • ড্রাগ টেস্টিং:
    কিছু অ্যানালাইজার ড্রাগ অফ অ্যাবিউজ (যেমন মারিজুয়ানা, কোকেন) টেস্ট করতে পারে।

ইউরিন অ্যানালাইজারের সুবিধা

ইউরিন অ্যানালাইজার ব্যবহারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো:

  1. দ্রুত ফলাফল: বেশিরভাগ টেস্ট ১-২ মিনিটের মধ্যে ফলাফল দেয়, যা ম্যানুয়াল টেস্টের তুলনায় অনেক দ্রুত।

  2. নির্ভুলতা: অটোমেটেড সিস্টেম মানুষের ভুল কমায়।

  3. বহুমুখীতা: একটি একক ডিভাইস দিয়ে একাধিক টেস্ট করা যায়।

  4. স্ক্রিনিংয়ে সুবিধা: UTI, ডায়াবেটিস, এবং কিডনি রোগের প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ে অত্যন্ত কার্যকর।

  5. রুটিন চেকআপ: হেলথ চেকআপের অংশ হিসেবে নিয়মিত ব্যবহার করা যায়।

ইউরিন অ্যানালাইজারের সীমাবদ্ধতা

ইউরিন অ্যানালাইজার অত্যন্ত কার্যকর হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে:

  1. মাইক্রোস্কোপিক টেস্টে সীমাবদ্ধতা: কিছু অ্যানালাইজার মাইক্রোস্কোপিক বিশ্লেষণে ম্যানুয়াল কনফার্মেশনের প্রয়োজন হয়।

  2. দূষিত নমুনা: দূষিত প্রস্রাব (যেমন মাসিকের সময় সংগ্রহ করা) ভুল ফলাফল দিতে পারে।

  3. নির্দিষ্ট টেস্টে সীমাবদ্ধতা: ইউরিন কালচার বা জটিল টেস্টের জন্য অতিরিক্ত ল্যাব সুবিধা প্রয়োজন।

  4. মডেল নির্ভরতা: সব অ্যানালাইজার সব ধরনের টেস্ট সমর্থন করে না।

ইউরিন অ্যানালাইজার কীভাবে কাজ করে?

ইউরিন অ্যানালাইজার সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপে কাজ করে:

  1. নমুনা সংগ্রহ: রোগীর কাছ থেকে পরিষ্কার প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মিডস্ট্রিম ক্লিন-ক্যাচ পদ্ধতি সবচেয়ে নির্ভুল।

  2. টেস্ট স্ট্রিপ প্রয়োগ: প্রস্রাবে টেস্ট স্ট্রিপ ডুবিয়ে অথবা অ্যানালাইজারে নমুনা ঢালা হয়।

  3. অটোমেটেড বিশ্লেষণ: অ্যানালাইজারের অপটিক্যাল সেন্সর টেস্ট স্ট্রিপের রঙ পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে।

  4. ফলাফল প্রদর্শন: ফলাফল ডিজিটাল স্ক্রিনে বা প্রিন্টআউট হিসেবে পাওয়া যায়।

  5. মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা (যদি প্রয়োজন হয়): অ্যানালাইজার বা ম্যানুয়ালি মাইক্রোস্কোপে সেডিমেন্ট পরীক্ষা করা হয়।

কখন ইউরিন অ্যানালাইজার টেস্ট করা উচিত?

ইউরিন অ্যানালাইজার টেস্ট নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে করা উচিত:

  • লক্ষণ দেখা দিলে: জ্বর, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘোলা প্রস্রাব, পেটে ব্যথা।

  • রুটিন চেকআপ: ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, বা লিভার সমস্যার ঝুঁকি থাকলে।

  • গর্ভাবস্থা নির্ণয়: hCG টেস্টের জন্য।

  • প্রি-সার্জিক্যাল টেস্টিং: অপারেশনের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে।

  • ক্রনিক রোগের মনিটরিং: ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, বা কিডনি রোগে নিয়মিত টেস্ট।

বাংলাদেশে ইউরিন অ্যানালাইজার টেস্ট

বাংলাদেশে ইউরিনালাইসিস টেস্ট অত্যন্ত সাধারণ এবং সাশ্রয়ী। Thyrocare, Popular Diagnostics, Ibn Sina, এবং Square Hospital-এর মতো ল্যাব এবং হাসপাতালে এই টেস্ট পাওয়া যায়। ইউরিন আর/ই টেস্টের মূল্য সাধারণত ২০০-৫০০ টাকার মধ্যে হয়। তবে বিশেষ টেস্ট (যেমন মাইক্রো-অ্যালবুমিন বা 24-ঘণ্টা প্রোটিন) বেশি খরচ হতে পারে।

ইউরিন সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি

নির্ভুল ফলাফলের জন্য প্রস্রাব সংগ্রহের সময় কিছু নিয়ম মানতে হবে:

  • মিডস্ট্রিম ক্লিন-ক্যাচ: প্রস্রাব শুরু করার পর মাঝের অংশ সংগ্রহ করুন।

  • পরিষ্কার পাত্র: জীবাণুমুক্ত পাত্র ব্যবহার করুন।

  • সময়মতো টেস্টিং: সংগ্রহের ১-২ ঘণ্টার মধ্যে টেস্ট করুন।

  • মাসিকের সময় এড়িয়ে চলুন: মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় প্রস্রাব সংগ্রহ এড়িয়ে চলতে হবে।

ইউরিন অ্যানালাইজারের ভবিষ্যৎ

প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে ইউরিন অ্যানালাইজার আরও উন্নত হচ্ছে। এখন কিছু পোর্টেবল ডিভাইস পাওয়া যায়, যা বাড়িতে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া AI-ভিত্তিক অ্যানালাইজার ফলাফল বিশ্লেষণে আরও নির্ভুলতা যোগ করছে। ভবিষ্যতে এই ডিভাইসগুলো আরও কম খরচে এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে।

উপসংহার

ইউরিন অ্যানালাইজার একটি শক্তিশালী টুল যা প্রস্রাবের বিভিন্ন উপাদান বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এটি UTI, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, লিভার সমস্যা, এবং গর্ভাবস্থা নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শারীরিক, রাসায়নিক, এবং মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষার মাধ্যমে এটি দ্রুত এবং নির্ভুল ফলাফল প্রদান করে। তবে সঠিক ফলাফলের জন্য নমুনা সংগ্রহের নিয়ম মানা এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যদি আপনার কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ থাকে বা রুটিন চেকআপ করতে চান, তাহলে নিকটস্থ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যোগাযোগ করুন।

Comments

Popular posts from this blog

Blood Pressure Monitor এর দাম কত বাংলাদেশে?

হাসপাতালের বিছানা কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কিভাবে সঠিকটি নির্বাচন করবেন

উচ্চ মানের ICU Ventilator রোগীর জীবন রক্ষায় আপনার বিশ্বস্ত সঙ্গী